male
বায়োডাটা নাম্বার
AH-121331
পাত্র
জন্ম তারিখ(আসল) 2003-11-12
জাতীয়তা বাংলাদেশী
109 মোট ভিউ
প্রাথমিক তথ্য
আমি খুঁজছি পাত্রীর বায়োডাটা
জন্ম তারিখ(আসল) 2003-11-12
জাতীয়তা বাংলাদেশী
IOM তথ্য
আপনি কি আইওএমের স্টুডেন্ট? না
সাধারণ তথ্য
বায়োডাটার ধরন পাত্রের বায়োডাটা
বৈবাহিক অবস্থা অবিবাহিত
জন্মসন (আসল) ২০০৩
গাত্রবর্ণ উজ্জ্বল শ্যামলা
উচ্চতা ৫'১০''
ওজন ৬০ কেজি
রক্তের গ্রুপ A+
পেশা ছাত্র/ছাত্রী
মাসিক আয় 250000
বর্তমান দেশ বাংলাদেশ
বর্তমান বিভাগ ঢাকা বিভাগ
বর্তমান জেলা ঢাকা
বর্তমান থানা/উপজেলা শেরেবাংলা নগর
স্থায়ী দেশ বাংলাদেশ
স্থায়ী বিভাগ ময়মনসিংহ বিভাগ
স্থায়ী জেলা নেত্রকোণা
স্থায়ী থানা/উপজেলা বারহাট্টা
ঠিকানা
স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিন্তপুর, বারহাট্টা, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ।
বর্তমান ঠিকানা পশ্চিম আগারগাঁও, শেরে বাংলা নগর, ঢাকা-১২০৭।
কোথায় বড় হয়েছেন? (Required) জি নেত্রকোনা জেলা গ্রামের বাড়িতে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
কোন মাধ্যমে পড়াশোনা করেছেন? (Required) জেনারেল
মাধ্যমিক (SSC) / সমমান পাশ করেছেন? হ্যাঁ
মাধ্যমিক (SSC) / সমমান ফলাফল A
মাধ্যমিক (SSC) / সমমান বিভাগ মানবিক বিভাগ
মাধ্যমিক (SSC) / সমমান পাসের সন ২০২০
উচ্চ মাধ্যমিক (HSC) / সমমান পাশ করেছেন? না
স্নাতক / স্নাতক (সম্মান) / সমমান শিক্ষাগত যোগ্যতা Bachelor of Science (B.Sc) in Computer Science and Engineering (CSE)
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম World University of Bangladesh (WUB)
পাসের সন দ্বিতীয় বর্ষ।
সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা ডিপ্লোমা পাশ।
অন্যান্য শিক্ষাগত যোগ্যতা ❖ শিক্ষাগত যোগ্যতা: ২০২০ সালে মানবিক বিভাগ থেকে SSC পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগে ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ভর্তি হই। উক্ত কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করে ২০২৪ সালে উত্তীর্ণ হয়েছি এবং CGPA: ৩.৬০ (৪.০০-এর মধ্যে) অর্জন করেছি। বর্তমানে World University of Bangladesh (WUB)-এর Computer Science & Engineering (CSE) বিভাগে স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়নরত আছি এবং বর্তমানে ২য় বর্ষে অধ্যয়ন করছি।
পারিবারিক তথ্য
পিতার পেশা জি আমার বাবা একজন কৃষক। তিনি আমাদের পারিবারিক কৃষিজমি ও ফসলের দেখাশোনার সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং চাষাবাদের কাজে আমার সেজো ভাইকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
মাতার পেশা রব্বাতুল বাইত
বোন কয়জন? ১জন
ভাই কয়জন? ৩জন
বোনদের সম্পর্কে তথ্য ১. বড় বোন

শিক্ষাগত যোগ্যতা: প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন
বৈবাহিক অবস্থা: বিবাহিত
পেশা: গৃহিণী
স্বামীর পেশা: দিনমজুর
ভাইদের সম্পর্কে তথ্য ১. বড় ভাই

- শিক্ষাগত যোগ্যতা: প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন
- বৈবাহিক অবস্থা: বিবাহিত
- পেশা: চাকরিজীবী

২. মেজো ভাই

- শিক্ষাগত যোগ্যতা: অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়ন
- বৈবাহিক অবস্থা: বিবাহিত
- পেশা: ব্যবসায়ী

৩. সেজো ভাই

- শিক্ষাগত যোগ্যতা: প্রাতিষ্ঠানিক/একাডেমিক শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই
- বৈবাহিক অবস্থা: বিবাহিত
- পেশা: কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত (কৃষক)
চাচা মামাদের পেশা চাচা:
আমাদের ১ জন চাচা রয়েছেন। তিনি কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত (কৃষক)।

মামা:
আমাদের ১ জন মামা রয়েছেন। তিনিও কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত (কৃষক)।
পরিবারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা জি পারিবারিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা আমরা একটি মধ্যবিত্ত, সম্মানিত ও সুশৃঙ্খল পরিবার। আলহামদুলিল্লাহ, পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণে আমরা স্বচ্ছন্দ এবং পরিমিত ও সম্মানজনক জীবনযাপনে অভ্যস্ত। আমাদের পরিবারে সততা, পারস্পরিক সম্মান, সৌহার্দ্য, দ্বীনি মূল্যবোধ ও পারিবারিক বন্ধনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। অতিরিক্ত জাঁকজমক বা বাহ্যিক আড়ম্বরের পরিবর্তে আমরা সাদাসিধে, পরিমিত ও মূল্যবোধসম্পন্ন জীবনযাপনকে প্রাধান্য দিই। সামাজিকভাবে আমরা আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত মহলে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সম্মানজনক সম্পর্ক বজায় রেখে চলি। আলহামদুলিল্লাহ, পরিবারে প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীলভাবে জীবনযাপন করছেন।
আপনার পরিবারের দ্বীনি অবস্থা কেমন? (বিস্তারিত বর্ণনা করুন ) (Required) জি আমাদের পরিবারে আলহামদুলিল্লাহ একটি সুন্দর ও দ্বীনি পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়। পরিবারের সবাই ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, শালীনতা, পর্দা ও পারিবারিক মূল্যবোধ মেনে চলার প্রতি গুরুত্ব দেন। বিশেষ করে মাহরাম ও নন-মাহরামের বিষয়টি আমাদের পরিবারে গুরুত্বের সঙ্গে মানা হয়। নন-মাহরাম নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে ইসলামী পর্দা, শালীনতা ও প্রয়োজনীয় সীমারেখা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়। পারিবারিক ও সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ইসলামী আদব ও শিষ্টাচার অনুসরণ করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, ইসলামী জ্ঞান অর্জন এবং সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষায় উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হয়। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের যাকাতযোগ্য সম্পদের মধ্যে ফসল ও অন্যান্য সম্পদের ক্ষেত্রে শরিয়াহ অনুযায়ী নিয়মিত যাকাত আদায় করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়। যাকাতকে শুধু একটি আর্থিক দায়িত্ব হিসেবে নয়, বরং আল্লাহর নির্দেশিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও সম্পদের হক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমাদের পরিবারের উদ্দেশ্য হলো পারস্পরিক ভালোবাসা, সম্মান ও ইসলামী মূল্যবোধের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সুন্দর পারিবারিক পরিবেশ গড়ে তোলা।
পিতা কি জীবিত? হ্যাঁ
মাতা কি জীবিত? হ্যাঁ
ব্যক্তিগত তথ্য
সুন্নতি দাঁড়ি রয়েছে কি? (Required) জি, আলহামদুলিল্লাহ ২০২০ সাল থেকে রেখেছি।
পায়ের টাখনুর উপরে কাপড় পরেন?(Required) জি, আলহামদুলিল্লাহ। আমি নিয়মিত টাখনুর উপরে কাপড় পরিধান করি এবং সুন্নাহসম্মত পোশাক পরিধান করার চেষ্টা করি।
প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া হয় ? হ্যাঁ জি, আলহামদুলিল্লাহ। আমি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার চেষ্টা করি এবং নামাজকে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গুরুত্ব দিই। এবং আমি ৮ বছর যাবৎ ধরে নিয়মিতভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি।
নিয়মিত নামায কত সময় যাবত পড়ছেন? (Required) হ্যাঁ জি, আলহামদুলিল্লাহ। আমি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার চেষ্টা করি এবং নামাজকে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গুরুত্ব দিই। এবং আমি ৮ বছর যাবৎ ধরে নিয়মিতভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি।
মাহরাম/গাইরে-মাহরাম মেনে চলেন কি? জি, আলহামদুলিল্লাহ। মাহরাম ও নন-মাহরামের বিধান মেনে চলি এবং এ বিষয়ে যথাসম্ভব শরিয়াহসম্মত সীমারেখা বজায় রাখি।
শুদ্ধভাবে কুরআন তিলওয়াত করতে পারেন? জি, আলহামদুলিল্লাহ। কুরআন মাজীদ শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করতে পারি এবং নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করার চেষ্টা করি। তাজবিদের নিয়ম মেনে যথাসম্ভব শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করার প্রতি গুরুত্ব দিই
ঘরের বাহিরে সাধারণত কী ধরনের পোশাক পরেন? জি আলহামদুলিল্লাহ, আমি পোশাক-পরিচ্ছদ ও দৈনন্দিন জীবনযাপনে ইসলামী আদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণ করার চেষ্টা করি। ঘরের বাইরে সাধারণত জুব্বা ও পায়জামা পরিধান করি এবং শালীনতা ও পর্দার বিধান মেনে চলাকে গুরুত্ব দিই। সামগ্রিকভাবে, পোশাক ও জীবনধারায় সুন্নাহসম্মত ও পরিমিত জীবনযাপন বজায় রাখার চেষ্টা করি।
কোনো রাজনৈতিক দর্শন থাকলে লিখুন (Required) না, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা, ন্যায়, আমানতদারি, দায়িত্বশীলতা, শান্তি ও মানুষের অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করি। দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল থাকা এবং সকলের প্রতি ন্যায়সঙ্গত ও সম্মানজনক আচরণ করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি।
নাটক/সিনেমা/সিরিয়াল/গান/খেলা এসব দেখেন বা শুনেন? আলহামদুলিল্লাহ, সাধারণত নাটক, সিনেমা, সিরিয়াল ও গান দেখা বা শোনা থেকে বিরত থাকি। অবসর সময়টা পরিবার, পড়াশোনা/কাজ, আত্মউন্নয়ন এবং ইসলামিক ও উপকারী বিষয়গুলোর পেছনে ব্যয় করার চেষ্টা করি।
মানসিক বা শারীরিক কোনো রোগ আছে কি? (Required) আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমানে উল্লেখযোগ্য কোনো মানসিক বা শারীরিক রোগ নেই। আল্লাহর রহমতে সুস্থ ও স্বাভাবিক আছি।
দ্বীনের কোনো বিশেষ মেহনতে যুক্ত আছেন? (Required) আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট দ্বীনি মেহনত বা সংগঠনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত নই। তবে ব্যক্তিগতভাবে দ্বীনের জ্ঞান অর্জন, আমল-আখলাকের উন্নতি এবং সামর্থ্য অনুযায়ী দ্বীনের বিষয়গুলো মেনে চলার চেষ্টা করি।
আপনি কি কোনো পীরের মুরিদ বা অনুসারী ? (Required) কোনো নির্দিষ্ট পীর বা ব্যক্তির মুরিদ হিসেবে অনুসরণ করি না। দ্বীনের ক্ষেত্রে কুরআন ও সহিহ সুন্নাহকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করার চেষ্টা করি এবং কোনো ব্যক্তির প্রতি অন্ধ অনুসরণের পরিবর্তে দলিলভিত্তিকভাবে দ্বীন বোঝা ও আমল করাকে গুরুত্ব দিই। একই সঙ্গে, ভিন্ন মত ও মতাদর্শের মানুষের প্রতি সম্মান ও উত্তম আচরণ বজায় রাখার চেষ্টা করি।
মাজার সম্পর্কে আপনার ধারণা বা বিশ্বাস কী? (Required) আলহামদুলিল্লাহ, মাজারকেন্দ্রিক কোনো আকীদা বা আমল অনুসরণ করি না। মৃত ব্যক্তির কাছে সাহায্য প্রার্থনা, মানত বা ইবাদত করাকে ইসলামের তাওহীদের পরিপন্থী ও শিরক মনে করি। ইবাদত ও সাহায্য প্রার্থনা একমাত্র আল্লাহর কাছেই করা উচিত—এই বিশ্বাস রাখি এবং কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ অনুযায়ী আকীদা ও আমল বজায় রাখার চেষ্টা করি।
আপনার পছন্দের অন্তত ৩ টি ইসলামী বই এর নাম লিখুন (Required) ১. কুরআন সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা (ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহিমাহুল্লাহ) ২. যেমন ছিলেন তিনি ( শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ) ৩. কুরআন থেকে নেওয়া জীবনের পাঠ (আরিফ আজাদ)
আপনার পছন্দের অন্তত ৩ জন আলেমের নাম লিখুন (Required) ১. শাইখ মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী রহিমাহুল্লাহ ২.শাইখ মুহাম্মাদ ইবন সালিহ আল-উসাইমীন রহিমাহুল্লাহ ৩.ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহিমাহুল্লাহ
বিশেষ দ্বীনি বা দুনিয়াবি যোগ্যতা (যদি থাকে) বর্তমানে ইঞ্জিনিয়ারিং/কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে অধ্যয়নরত। পড়াশোনার পাশাপাশি পারিবারিক ব্যবসার ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করছি। প্রযুক্তি, প্রোগ্রামিং ও ওয়েব ডেভেলপমেন্টের প্রতি আগ্রহ রয়েছে এবং নিজ উদ্যোগে এসব বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করছি। পাশাপাশি ব্যবসা ও ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য নিয়মিত নতুন জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে আগ্রহী। দুনিয়াবী শিক্ষার পাশাপাশি কুরআন-সুন্নাহর আলোকে দ্বীনি জ্ঞান অর্জন ও তা জীবনে বাস্তবায়নের চেষ্টা করি। নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত, ইসলামী জ্ঞানচর্চা এবং প্রয়োজনীয় দ্বীনি বিষয় শেখার প্রতি আগ্রহ রয়েছে। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে আল্লাহর সন্তুষ্টি, উত্তম চরিত্র, আমল ও ইসলামী মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে চলার চেষ্টা করি।
নিজের সম্পর্কে কিছু লিখুন জি আলহামদুলিল্লাহ, আমি সাধারণ, শান্ত স্বভাবের এবং পরিবারকেন্দ্রিক একজন মানুষ। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়ার এবং কুরআন-সুন্নাহর আলোকে নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করি। দ্বীনের বিষয়ে যতটুকু জানি, তা অনুযায়ী আমল করার চেষ্টা করি এবং নিজের জ্ঞান ও আমলকে প্রতিনিয়ত আরও সুন্দর করার ইচ্ছা রাখি। নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, ইসলামী জ্ঞান অর্জন এবং উত্তম চরিত্র গঠনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিই।

ব্যক্তিগত জীবনে শালীনতা, সরলতা, সততা, দায়িত্বশীলতা, আমানতদারি ও পারস্পরিক সম্মানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। অপ্রয়োজনীয় আড্ডা, অহেতুক সময় নষ্ট করা ও অতিরিক্ত বিলাসী জীবনযাপন পছন্দ করি না। বরং পরিবারকে সময় দেওয়া, প্রয়োজনীয় ও উপকারী মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং অর্থবহ ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পছন্দ করি।

দুনিয়াবী জীবনে বর্তমানে ইঞ্জিনিয়ারিং/কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে অধ্যয়নরত। পড়াশোনার পাশাপাশি পারিবারিক ব্যবসার ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করছি। প্রযুক্তি, প্রোগ্রামিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ও নতুন কিছু শেখার প্রতি আমার আগ্রহ রয়েছে। নিজের জ্ঞান, দক্ষতা ও কর্মজীবনকে ভবিষ্যতে আরও উন্নত করার পাশাপাশি হালাল উপার্জনের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজের জন্য উপকারী হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।

অবসর সময়ে কুরআন তিলাওয়াত, ইসলামী জ্ঞানচর্চা, বই পড়া, প্রযুক্তি ও নতুন বিষয় শেখা এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালো লাগে। শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য পরিমিত জীবনযাপন ও প্রয়োজনীয় ব্যায়াম/শারীরিক কার্যক্রমের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করি।

ভবিষ্যতে এমন একটি পরিবার গড়ে তুলতে চাই, যেখানে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান, বিশ্বস্ততা ও সহযোগিতার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করবে। দাম্পত্য জীবনে দ্বীন, পারস্পরিক বোঝাপড়া, দায়িত্ববোধ, সুন্দর আখলাক এবং পরিবারের প্রতি যত্নকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই। সন্তান হলে তাদের দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দুনিয়াবী শিক্ষায়ও যত্নবান করার ইচ্ছা রয়েছে।

সবশেষে, নিজেকে পরিপূর্ণ দাবি করি না; বরং একজন মানুষ হিসেবে নিজের ভুল-ত্রুটি সংশোধন করে প্রতিনিয়ত আরও ভালো হওয়ার চেষ্টা করি। আল্লাহ যেন আমাকে দ্বীনের ওপর অটল রাখেন, হালাল ও বরকতময় রিজিক দান করেন এবং এমন একটি পরিবার গঠনের তাওফিক দেন, যা দুনিয়াতে শান্তির এবং আখিরাতে নাজাতের মাধ্যম হয়—এই প্রত্যাশা রাখি।
কোন মাজহাব অনুসরণ করেন? সালাফি[আহলে হাদিস]
নজরের হেফাজত করেন? (Required) হ্যা
দ্বীনি ফিউচার প্ল্যন কি আপনার? জি দ্বীনি ফিউচার প্ল্যান ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যৎ জীবনের প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি হলো দ্বীনের ওপর অটল থাকা, নিজের ঈমান, আমল ও আখলাককে আরও সুন্দর করা এবং কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা করা। পাশাপাশি পরিবারকে একটি দ্বীনি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ সন্তানদের দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার আন্তরিক ইচ্ছা রয়েছে। দুনিয়াবী জীবনে ইনশাআল্লাহ হালাল ব্যবসাকে আমার প্রধান পেশা ও কর্মক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার ইচ্ছা রয়েছে। বর্তমানে পড়াশোনার পাশাপাশি পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছি এবং ভবিষ্যতে ব্যবসাকে আরও পরিকল্পিত, সুশৃঙ্খল ও বৃহৎ পরিসরে এগিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। তবে ব্যবসা ও দুনিয়াবী সাফল্য যেন কখনো দ্বীনের ওপর প্রভাব বিস্তার না করে—বরং হালাল উপার্জন, সততা, আমানতদারি ও ইসলামী ব্যবসায়িক নীতিমালা মেনে ব্যবসা পরিচালনা করাই আমার লক্ষ্য। আল্লাহ তাআলা যদি সামর্থ্য ও বরকত দেন, তাহলে নিজের জন্য স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও সমাজের জন্যও উপকারী হওয়ার চেষ্টা করতে চাই। সামর্থ্য ও সুযোগ হলে ভবিষ্যতে নিজ এলাকায় একটি মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করার নিয়ত রয়েছে, যেখানে মেয়েরা নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে কুরআন, হাদিস, প্রয়োজনীয় দ্বীনি জ্ঞান ও নৈতিক শিক্ষা অর্জনের সুযোগ পাবে—ইনশাআল্লাহ। এছাড়াও আমার এলাকার যুবকদের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করে, তাদের প্রতি ভালোবাসা ও উত্তম আচরণের মাধ্যমে এবং নিজের আমল ও চরিত্রের মাধ্যমে দ্বীনের প্রতি আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা করার ইচ্ছা রয়েছে। তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণভাবে সময় দেওয়া, প্রয়োজনীয় দ্বীনি বিষয় শেখার সুযোগ তৈরি করা এবং ভালো কাজে উৎসাহিত করার মাধ্যমে একটি সুন্দর ও দ্বীনমুখী যুবসমাজ গড়ে তুলতে চাই—ইনশাআল্লাহ। আমি মনে করি, দাওয়াতের ক্ষেত্রে কঠোরতা বা চাপ প্রয়োগের চেয়ে হিকমাহ, উত্তম চরিত্র, ধৈর্য, সুন্দর ব্যবহার এবং নিজের জীবনে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিজেকে সংশোধন করার পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবার, সমাজ ও আশপাশের মানুষের কল্যাণে দ্বীনের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে চাই। আল্লাহ তাআলা যদি তাওফিক ও সামর্থ্য দান করেন, তাহলে ভবিষ্যতে দ্বীন, হালাল ব্যবসা, পরিবার ও সমাজসেবাকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমার প্রত্যাশা—দুনিয়াবী জীবনে সফলতা অর্জনের পাশাপাশি আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া এবং এমন একটি জীবন গড়ে তোলা, যেখানে হালাল উপার্জন জীবিকার মাধ্যম হবে, দ্বীন হবে জীবনের পথনির্দেশনা এবং পরিবার ও সমাজের কল্যাণ হবে দায়িত্বের অংশ। আল্লাহ তাআলা যেন আমাকে দ্বীনের ওপর অটল রাখেন, হালাল ও বরকতময় রিজিক দান করেন এবং আমার নিয়ত ও কর্মে বরকত দান করেন—আমিন।
অবসর সময় কিভাবে কাটান? (Required) জি অবসর সময়ে কুরআন তিলাওয়াত, ইসলামী জ্ঞানচর্চা ও প্রয়োজনীয় দ্বীনি বিষয় শেখার চেষ্টা করি। পাশাপাশি পরিবারকে সময় দিতে, উপকারী বই পড়তে এবং নতুন কোনো জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে ভালো লাগে। প্রযুক্তি, প্রোগ্রামিং ও ওয়েব ডেভেলপমেন্টের বিষয়ে শেখা ও কাজ করতেও আগ্রহী। ব্যবসা সম্পর্কিত নতুন ধারণা, পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ উদ্যোগ নিয়ে চিন্তা করতেও সময় দিই। এছাড়াও নিজের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য হাঁটা, ব্যায়াম বা প্রয়োজনীয় শারীরিক কার্যক্রমে সময় দেওয়ার চেষ্টা করি। মোটকথা, অবসর সময়কে যথাসম্ভব উপকারী কাজে ব্যয় করতে পছন্দ করি এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে সময় নষ্ট করা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি।
কত ওয়াক্ত নামায জামাতের সাথে আদায় করেন? (Required) জি আলহামদুলিল্লাহ, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত আদায় করার চেষ্টা করি এবং পাঁচ ওয়াক্তই জামাতের সঙ্গে আদায় করাকে গুরুত্ব দিই। পাশাপাশি অন্যান্য ফরজ ও গুরুত্বপূর্ণ আমল যথাসাধ্য পালনের চেষ্টা করি। নিজের ঈমান, আমল, আখলাক ও চরিত্রকে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে আরও সুন্দর ও পরিশুদ্ধ করার জন্য নিয়মিত চেষ্টা করে থাকি।
বাড়িতে কি কি দায়িত্ব আপনি পালন করে থাকেন? (Required) জি আলহামদুলিল্লাহ, পরিবারের একজন দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে সামর্থ্য অনুযায়ী বিভিন্ন পারিবারিক দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করি। পড়াশোনার পাশাপাশি পারিবারিক ব্যবসার ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার কাজে দায়িত্ব পালন করি এবং ব্যবসার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয় দেখাশোনায় পরিবারের সঙ্গে সহযোগিতা করি। এছাড়াও পরিবারের প্রয়োজনীয় কাজে সহযোগিতা করা, বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেওয়া, প্রয়োজনের সময় তাদের পাশে থাকা এবং পারিবারিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দায়িত্বশীলভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। পরিবারের বড়দের সম্মান করা এবং ছোটদের প্রতি স্নেহ ও যত্নশীল থাকাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। দৈনন্দিন জীবনে নিজের ব্যক্তিগত কাজ নিজে করার পাশাপাশি ঘরের প্রয়োজনীয় কাজে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করি। বিশেষ করে পরিবারের কোনো সদস্যের প্রয়োজন হলে সময় দেওয়া, প্রয়োজনীয় কাজে পাশে থাকা এবং পারিবারিক দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করি। ভবিষ্যতে বিবাহিত জীবনে স্বামী হিসেবে স্ত্রীর প্রতি দায়িত্বশীল থাকা, তার অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা, পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার মাধ্যমে সংসার পরিচালনা করা এবং পরিবারকে দ্বীনি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে গড়ে তোলা—এসব দায়িত্বও যথাযথভাবে পালনের মানসিকতা রয়েছে। আমার কাছে পরিবার শুধু দায়িত্বের বিষয় নয়; বরং ভালোবাসা, আমানত, পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্ববোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
আপনি কি ধুমপান করেন? (Required) না, আলহামদুলিল্লাহ, আমি ধূমপান করি না এবং কোনো ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করি না। ইসলামের দৃষ্টিতে শরীর, সম্পদ ও আমানতের প্রতি যত্নশীল থাকা এবং ক্ষতিকর বিষয় থেকে নিজেকে দূরে রাখাকে গুরুত্ব দিই। তাই ধূমপান ও নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার চেষ্টা করি।
বিয়ে সংক্রান্ত তথ্য
অভিভাবক আপনার বিয়েতে রাজি কি না? জি আলহামদুলিল্লাহ, আমার অভিভাবকগণ আমার বিবাহের বিষয়ে সম্পূর্ণ সম্মত ও ইতিবাচক। তাঁরা একজন দ্বীনদার, সচ্চরিত্র, বিনয়ী ও উত্তম পারিবারিক মূল্যবোধসম্পন্ন জীবনসঙ্গী প্রত্যাশা করেন। উপযুক্ত প্রস্তাব এলে উভয় পরিবারের পারস্পরিক সম্মতি, বোঝাপড়া ও পরামর্শের ভিত্তিতে বিবাহের বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া হবে।
বিয়ে কেন করছেন? বিয়ে সম্পর্কে আপনার ধারণা কি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, `বিয়ে হলো আমার সুন্নাত, যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত তরিকা ছেড়ে চলবে সে আমার দলভুক্ত নয়।’`
বুখারি-৫০৬৩, মুসলিম ১৬/১, হাঃ ১৪০১, আহমাদ ১৩৫৩৪

“যে ব্যক্তি বিয়ে করলো, সে তার অর্ধেক দ্বীন পূর্ণ করে ফেললো। বাকি অর্ধেকের জন্য সে আল্লাহকে ভয় করুক।”
— বায়হাকী, শু‘আবুল ঈমান, হাদিস: ৫৪৮৬

আলহামদুলিল্লাহ, আমি বিবাহকে শুধু সামাজিক প্রথা, পার্থিব প্রয়োজন কিংবা ব্যক্তিগত চাহিদা পূরণের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখি না। আমার কাছে বিবাহ একটি পবিত্র আমানত, দায়িত্ব, সুন্নাহ এবং ইবাদতের অংশ—যার মাধ্যমে একজন পুরুষ ও একজন নারী হালাল ও সম্মানজনক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দ্বীনের পথে একে অপরের সহযোগী হতে পারে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন:

“আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জীবনসঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ কর; এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া স্থাপন করেছেন।”
— সূরা আর-রূম, ৩০:২১

এই আয়াত থেকে আমি বুঝি, বিবাহের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো সাকিনা (প্রশান্তি), মাওয়াদ্দাহ (ভালোবাসা) ও রহমাহ (দয়া)-এর মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবার গড়ে তোলা। তাই আমি এমন একজন জীবনসঙ্গী চাই, যার সঙ্গে শুধু দুনিয়ার জীবন নয়, বরং দ্বীন ও আখিরাতের পথেও একে অপরের সহযোগী হতে পারব।

রাসূলুল্লাহ ﷺ যুবকদের উদ্দেশে বলেছেন:

হে যুবকগণ! তোমাদের মধ্যে যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিবাহ করে; কারণ এটি দৃষ্টিকে অবনত রাখতে এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করতে অধিক সহায়ক।”
— সহিহ আল-বুখারি, হাদিস ৫০৬৬

তাই আমি বিবাহকে নিজের দৃষ্টি, চরিত্র ও পবিত্রতা হেফাজতের একটি হালাল মাধ্যম হিসেবেও দেখি। হারাম সম্পর্ক বা অনৈতিকতার পথ থেকে নিজেকে দূরে রেখে একজন বৈধ জীবনসঙ্গীর সঙ্গে পবিত্র ও দায়িত্বশীল জীবনযাপন করাই আমার প্রত্যাশা।

আমার কাছে জীবনসঙ্গী নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

আমি জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সৌন্দর্য, সম্পদ, বংশ-মর্যাদা কিংবা সামাজিক অবস্থানকে অগ্রাধিকার দিতে চাই না। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“একজন নারীকে চারটি কারণে বিবাহ করা হয়—তার সম্পদ, বংশ-মর্যাদা, সৌন্দর্য এবং দ্বীনদারির কারণে। সুতরাং তুমি দ্বীনদার নারীকে অগ্রাধিকার দাও।”
— সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৪৬৬

এই হাদিসের আলোকে আমার কাছে একজন সম্ভাব্য জীবনসঙ্গীর দ্বীনদারি, চরিত্র, লজ্জাশীলতা, আল্লাহভীতি, পর্দাশীলতা এবং উত্তম আখলাক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আমি কেমন দাম্পত্য জীবন চাই

আমি এমন একটি পরিবার গড়ে তুলতে চাই যেখানে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং দ্বীনের পথে পরস্পরের সহযোগী হবে। সংসারে ভালোবাসা, সম্মান, দায়িত্ববোধ, বিশ্বস্ততা, ধৈর্য এবং পারস্পরিক সহযোগিতা থাকবে।

আমার কাছে স্বামী হওয়া মানে শুধু পরিবারের কর্তা হওয়া নয়; বরং স্ত্রী ও পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া, তাদের অধিকার রক্ষা করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের জন্য নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে-ই, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম; আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।”
— জামে‘ আত-তিরমিজি, হাদিস ৩৮৯৫

অতএব, আমি এমন একটি দাম্পত্য জীবন প্রত্যাশা করি যেখানে দ্বীন ও দায়িত্বের পাশাপাশি ভালোবাসা, কোমলতা ও পারস্পরিক সম্মান থাকবে।

সন্তান ও ভবিষ্যৎ পরিবার সম্পর্কে আমার ধারণা

বিবাহের মাধ্যমে শুধু স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক তৈরি হয় না; বরং একটি নতুন পরিবারের ভিত্তি স্থাপিত হয়। ভবিষ্যতে আমাদের সন্তানদের এমন পরিবেশে বড় করতে চাই যেখানে তারা কুরআন-সুন্নাহ, আদব-আখলাক, সত্যবাদিতা, দায়িত্ববোধ ও উত্তম চরিত্রের শিক্ষা পাবে।

আমি চাই আমাদের ঘরটি শুধু থাকার জায়গা না হয়ে দ্বীন, ইলম, ইবাদত, ভালোবাসা ও প্রশান্তির একটি সুন্দর পরিবেশ হোক।

আল্লাহ তাআলা অবিবাহিতদের বিবাহের প্রতি উৎসাহিত করে বলেন:

“তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত, তাদের বিবাহ দাও... তারা দরিদ্র হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন।”
— সূরা আন-নূর, ২৪:৩২

আমার বিবাহের মূল উদ্দেশ্য

সার্বিকভাবে, আমি বিবাহ করতে চাই—

❖ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে;
❖ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সুন্নাহ অনুসরণের জন্য;
❖ নিজেকে হারাম থেকে হেফাজত করার জন্য;
❖ একজন দ্বীনদার জীবনসঙ্গীর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও পবিত্র জীবন গড়ার জন্য;
❖ একে অপরকে দ্বীন পালনে সহযোগিতা করার জন্য;
❖ ভবিষ্যতে নেক ও সৎ সন্তান লালন-পালনের জন্য;
❖ এবং এমন একটি পরিবার গড়ে তোলার জন্য, যেখানে দ্বীন, ভালোবাসা, দায়িত্ব, সম্মান ও রহমাহ থাকবে।

আমার কাছে বিবাহ কোনো পক্ষের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যম নয়; বরং এটি আল্লাহর সামনে একটি দায়িত্ব ও আমানত। তাই আমি এমন একজন জীবনসঙ্গী প্রত্যাশা করি, যিনি বিবাহকে শুধু দুনিয়াবি সম্পর্ক হিসেবে নয়, বরং দ্বীন ও আখিরাতের পথে একসঙ্গে চলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখেন।

আল্লাহ আমাদের জন্য এমন জীবনসঙ্গী নির্ধারণ করুন, যার মাধ্যমে আমাদের দুনিয়ার জীবন প্রশান্তিময় এবং আখিরাতের পথ কল্যাণময় হয়। আমিন।
বিয়ের পর স্ত্রীকে পড়াশোনা করতে দিতে চান? না । বিয়ের পর স্ত্রীকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আমার সম্মতি থাকবে না। আমার দৃষ্টিতে বিবাহের পর একজন স্ত্রীর জন্য সংসার, পরিবার ও দাম্পত্য জীবনের দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিবাহের পর নিয়মিত কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অধ্যয়ন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা আমি রাখি না। তবে স্ত্রী যেন জ্ঞানচর্চা, দ্বীনি শিক্ষা, প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত উন্নয়ন ও ঘরে বসে উপকারী বিষয় শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন—এ বিষয়ে আমি ইতিবাচক। পারিবারিক পরিবেশ ও দাম্পত্য জীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সুযোগ দেওয়ার ব্যাপারে আমি আগ্রহী।
বিয়ের পর স্ত্রীকে চাকরী করতে দিতে চান? না। বিয়ের পর স্ত্রীকে চাকরি বা নিয়মিত পেশাগত কর্মজীবনে যুক্ত করার ইচ্ছা আমার নেই। আমি চাই, তিনি ঘর-সংসার, স্বামী-পরিবার এবং ভবিষ্যৎ সন্তানদের প্রতি দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, পর্দাশীল ও দ্বীনভিত্তিক পারিবারিক পরিবেশ গড়ে তুলুন। আলহামদুলিল্লাহ, পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব স্বামী হিসেবে আমি নিজেই বহন করতে চাই। তাই স্ত্রীকে জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে বাইরে চাকরি করতে হবে—এমন কোনো প্রয়োজন বা প্রত্যাশা আমার নেই। বিশেষ করে এমন কর্মপরিবেশ, যেখানে পর্দার ব্যাঘাত, নন-মাহরামের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা বা ইসলামী সীমারেখা লঙ্ঘনের আশঙ্কা থাকে, তা আমি গ্রহণযোগ্য মনে করি না। ভবিষ্যতে আমার ইচ্ছা রয়েছে, ইনশাআল্লাহ, একটি দ্বীনি/মহিলা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করার এবং দ্বীনি ও ইসলামী শিক্ষার প্রসারে কাজ করার। সেই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে আমার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে, তাঁর পর্দা ও মর্যাদা বজায় রেখে, পারিবারিকভাবে সহযোগিতা করার ইচ্ছা রয়েছে। অর্থাৎ প্রচলিত চাকরির পরিবর্তে আমাদের পারিবারিক জীবন ও ভবিষ্যৎ দ্বীনি উদ্যোগকে কেন্দ্র করে একটি দ্বীনভিত্তিক পরিবেশ গড়ে তোলাই আমার প্রত্যাশা। সর্বোপরি, আমি এমন একজন জীবনসঙ্গী প্রত্যাশা করি যিনি দ্বীন, পর্দা, পরিবার ও ইসলামী মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে আমার সঙ্গে এই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আন্তরিকভাবে অংশীদার হতে আগ্রহী।
বিয়ে উপলক্ষে আপনি বা আপনার পরিবার পাত্রীপক্ষের কাছে যৌতুক বা উপহার বা অর্থ আশা করবেন কি না? না, কোনোভাবেই নয়। আলহামদুলিল্লাহ, আমি বা আমার পরিবার পাত্রীপক্ষের কাছে কোনো ধরনের যৌতুক, নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স, গাড়ি, জমি কিংবা অন্য কোনো উপহার বা সম্পদ প্রত্যাশা করি না এবং এ ধরনের কোনো দাবি বা শর্তও থাকবে না। পাত্রীপক্ষের আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী কোনো কিছু দেওয়ার প্রয়োজন আছে—এমন মানসিকতাও আমাদের নেই। বরং আমি চাই, আমাদের বিবাহ সম্পূর্ণভাবে যৌতুকমুক্ত, সহজ, সম্মানজনক এবং ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে সম্পন্ন হোক। আমার কাছে বিবাহ কোনো আর্থিক লেনদেন বা পাত্রীপক্ষের ওপর বোঝা চাপানোর বিষয় নয়; বরং এটি একটি পবিত্র আমানত, দায়িত্ব ও পারিবারিক বন্ধন। ইনশাআল্লাহ, আমার সামর্থ্য অনুযায়ী যে দেনমোহর নির্ধারিত হবে, সেটি আমার স্ত্রীকে তাঁর প্রাপ্য অধিকার হিসেবে আমি নিজ দায়িত্বে প্রদান করব। সম্ভব হলে দেনমোহরের নির্ধারিত অর্থ নগদে, সরাসরি আমার স্ত্রীকে প্রদান করাকেই আমি অগ্রাধিকার দেব—যাতে তাঁর অধিকার তাঁর কাছেই পৌঁছে যায়। দেনমোহরকে কোনোভাবেই পাত্রীপক্ষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বা তাদের কাছ থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা নেওয়ার মাধ্যম হিসেবে দেখা হবে না। এমনকি পাত্রীপক্ষ খুশি হয়ে বা স্বেচ্ছায় কিছু দিতে চাইলেও সেটিকে আমি বিবাহের শর্ত, প্রত্যাশা বা অধিকার হিসেবে গ্রহণ করব না। বিশেষ করে এমন কোনো উপহার, অর্থ বা সম্পদ গ্রহণ করতে চাই না, যা তাদের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে বা ভবিষ্যতে সামাজিক প্রত্যাশা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আমার ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে একমাত্র প্রত্যাশা হলো—দ্বীনদার, সচ্চরিত্র ও উত্তম পারিবারিক মূল্যবোধসম্পন্ন একজন জীবনসঙ্গী। অর্থ-সম্পদ, উপহার বা সামাজিক প্রদর্শন নয়; বরং দ্বীন, তাকওয়া, চরিত্র, পারস্পরিক সম্মান ও ভালোবাসার ভিত্তিতে একটি সুন্দর পরিবার গড়ে তোলাই আমার উদ্দেশ্য। ইনশাআল্লাহ, আমি চাই আমাদের বিবাহ এমনভাবে সম্পন্ন হোক, যেখানে পাত্রীপক্ষের ওপর কোনো যৌতুকের চাপ থাকবে না, অপ্রয়োজনীয় খরচ ও লোকদেখানো থাকবে না এবং উভয় পরিবার স্বাচ্ছন্দ্য ও সম্মানের সঙ্গে একটি পবিত্র সম্পর্কের সূচনা করতে পারবে।
বিয়ের পর স্ত্রীর ভরনপোষন চালাতে পারবেন? হ্যা
আপনাার স্ত্রীর প্রতি কি কি দায়িত্ব আছে আপনার? জি স্ত্রীর প্রতি দায়িত্ব ও দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে আমার দৃষ্টিভঙ্গি ‎ ‎আমার কাছে বিবাহ কেবল একটি সামাজিক সম্পর্ক বা পারিবারিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অর্পিত একটি পবিত্র আমানত, দায়িত্ব এবং দুইটি মানুষের পারস্পরিক অঙ্গীকার। তাই আমি মনে করি, একজন স্বামীর দায়িত্ব শুধু পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন পূরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং স্ত্রীর সম্মান, অধিকার, নিরাপত্তা, মানসিক প্রশান্তি, ভালোবাসা এবং দ্বীনের পথে সহযোগিতার প্রতিও তার দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। ‎ ‎আল্লাহ তাআলা বলেন— ‎ ‎«“আর তোমরা তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো।” ‎— সূরা আন-নিসা: ১৯» ‎ ‎এই আয়াতকে সামনে রেখে আমি মনে করি, দাম্পত্য জীবনের ভিত্তি হওয়া উচিত সদাচরণ, পারস্পরিক সম্মান, ভালোবাসা, বিশ্বাস, ধৈর্য, দায়িত্ববোধ ও বোঝাপড়া। একজন স্ত্রীকে শুধু সংসারের দায়িত্ব পালনের জন্য নয়, বরং একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ, জীবনসঙ্গী এবং আল্লাহর দেওয়া আমানত হিসেবে সম্মান করা উচিত। ‎ ‎একজন স্বামী হিসেবে আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী স্ত্রীর ভরণ-পোষণ, নিরাপত্তা, সম্মান, প্রয়োজন ও বৈধ অধিকারগুলো যথাযথভাবে আদায় করার চেষ্টা করতে চাই। তার সুখ-দুঃখ, মানসিক অনুভূতি ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া এবং জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তার পাশে থাকা আমার দায়িত্ব বলে মনে করি। সংসারে কোনো কঠিন পরিস্থিতি এলে একে অপরের বিরুদ্ধে না গিয়ে বরং একসঙ্গে বসে বিষয়টি বোঝার, আলোচনা করার এবং সুন্দরভাবে সমাধানের চেষ্টা করাই আমার প্রত্যাশা। ‎ ‎রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন— ‎ ‎«“তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম।” ‎— জামে‘ আত-তিরমিজি: ৩৮৯৫» ‎ ‎এই হাদিসের শিক্ষা অনুযায়ী আমি মনে করি, একজন মানুষের প্রকৃত উত্তম চরিত্র তার পরিবারের সঙ্গে তার আচরণের মধ্যেও প্রকাশ পাওয়া উচিত। তাই স্ত্রীর সঙ্গে কোমলতা, ভদ্রতা ও সম্মানের সঙ্গে কথা বলা, তার ভুল-ত্রুটিকে ধৈর্যের সঙ্গে দেখা, তার ভালো দিকগুলোকে মূল্যায়ন করা এবং অপ্রয়োজনীয় রাগ, অপমান, কষ্ট দেওয়া কিংবা কঠোরতা থেকে নিজেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা উচিত। ‎ ‎আমার কাছে দাম্পত্য জীবন ক্ষমতার সম্পর্ক নয়; বরং দায়িত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক অধিকারের সম্পর্ক। স্ত্রীকে অধীনস্থ বা কেবল সংসারের দায়িত্ব পালনকারী হিসেবে না দেখে একজন জীবনসঙ্গী হিসেবে দেখা উচিত—যার সঙ্গে জীবনের আনন্দ-বেদনা, সাফল্য-ব্যর্থতা, দুশ্চিন্তা ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ভাগ করে নেওয়া যায়। তার মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনা, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যথাসম্ভব পরামর্শ করা এবং তার ব্যক্তিত্ব ও সম্মানকে মর্যাদা দেওয়া আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ‎ ‎আমি চাই, স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য শান্তি, প্রশান্তি ও নিরাপত্তার আশ্রয়স্থল হয়ে উঠুক। আল্লাহ তাআলা বলেন— ‎ ‎«“আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের সঙ্গীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করো; এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া স্থাপন করেছেন।” ‎— সূরা আর-রূম: ২১» ‎ ‎এই আয়াতের আলোকে আমি মনে করি, একটি সুন্দর দাম্পত্য জীবনের সৌন্দর্য শুধু বাহ্যিক সামঞ্জস্যে নয়; বরং মাওয়াদ্দাহ (ভালোবাসা), রহমাহ (দয়া), পারস্পরিক সম্মান এবং মানসিক প্রশান্তির মধ্যেই নিহিত। ‎ ‎দাম্পত্য জীবনে মতের অমিল বা ভুল বোঝাবুঝি হওয়া স্বাভাবিক। তাই কোনো মতভেদকে অহংকার, রাগ বা জেদের মাধ্যমে বড় না করে ধৈর্য, সংযম, আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করতে চাই। রাগের সময় এমন কোনো কথা বা আচরণ না করা, যার কারণে পরে অনুশোচনা করতে হয়—এটিকেও আমি দাম্পত্য দায়িত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করি। ‎ ‎আমি চাই, আমরা দুজন একে অপরের দ্বীনের পথে সহযোগী হই। নামাজ, কুরআন, সুন্নাহ, হালাল-হারাম ও ইসলামী জীবনযাপনের ক্ষেত্রে একে অপরকে উৎসাহিত করি। একজনের কোনো দুর্বলতা বা ভুল থাকলে তাকে অপমান না করে ভালোবাসা, হিকমাহ ও সুন্দর আচরণের মাধ্যমে সংশোধনের চেষ্টা করি। কারণ আমার কাছে একজন জীবনসঙ্গীর সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য শুধু বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যে নয়; বরং তার দ্বীনদারি, তাকওয়া, চরিত্র, লজ্জাশীলতা, বিনয় ও উত্তম আখলাকের মধ্যে। ‎ ‎আমি এটাও বিশ্বাস করি যে, দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা শুধু কথায় প্রকাশ পাওয়ার বিষয় নয়; বরং সময় দেওয়া, খোঁজ নেওয়া, প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানো, কষ্ট বুঝতে চেষ্টা করা, দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া এবং ছোট ছোট বিষয়েও একে অপরের প্রতি যত্নশীল হওয়ার মধ্য দিয়েও ভালোবাসা প্রকাশ পায়। ‎ ‎একই সঙ্গে আমি চাই, আমাদের সম্পর্ক এমন হোক যেখানে দুজনই একে অপরের দোষ-ত্রুটি আড়াল করবে, ব্যক্তিগত বিষয় ও গোপনীয়তা রক্ষা করবে এবং বাইরের মানুষের সামনে পরস্পরের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখবে। সংসারের কোনো ব্যক্তিগত বিষয় অপ্রয়োজনে অন্যের কাছে প্রকাশ না করে প্রয়োজন হলে বিশ্বস্ত ও বিচক্ষণ ব্যক্তির পরামর্শ নেওয়ার মানসিকতা থাকা উচিত বলে মনে করি। ‎ ‎আমার কাছে স্ত্রী কোনো অধীনস্থ ব্যক্তি নন; বরং তিনি একজন সম্মানিত জীবনসঙ্গী, সহযাত্রী এবং আল্লাহ তাআলার দেওয়া একটি আমানত। তাই তার অধিকার আদায় করা, তার সম্মান রক্ষা করা এবং তার সঙ্গে উত্তম আচরণ করা আমার জন্য শুধু পারিবারিক দায়িত্ব নয়—বরং আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতারও বিষয়। ‎ ‎আমি জানি, একজন আদর্শ স্বামী হওয়া শুধু কিছু সুন্দর কথা বলার বিষয় নয়; বরং এটি প্রতিদিনের জীবনে নিজেকে সংশোধন করা, দায়িত্বশীল হওয়া, ধৈর্য ধারণ করা এবং নিজের কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখার একটি দীর্ঘ পথ। তাই আমি নিজেকে পরিপূর্ণ দাবি না করে, বরং কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী নিজেকে আরও উত্তম স্বামী, উত্তম মানুষ এবং দায়িত্বশীল জীবনসঙ্গী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করতে চাই। ‎ ‎সর্বোপরি, আমার প্রত্যাশা হলো—আমাদের দাম্পত্য জীবন যেন আল্লাহর সন্তুষ্টিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে; যেখানে থাকবে দ্বীন, ভালোবাসা, রহমত, বিশ্বস্ততা, পারস্পরিক সম্মান, সুন্দর আচরণ, দায়িত্ববোধ ও পরস্পরের প্রতি আন্তরিকতা। আমরা যেন একে অপরের জন্য শুধু দুনিয়ার জীবনের সঙ্গী না হয়ে, বরং আখিরাতের সফলতার পথেও পরস্পরের সহযোগী হতে পারি। ‎ ‎ইনশাআল্লাহ, আমার চেষ্টা থাকবে—স্ত্রীর সঙ্গে এমনভাবে জীবনযাপন করা, যাতে সে আমার কাছে নিরাপত্তা, সম্মান, ভালোবাসা ও প্রশান্তি অনুভব করে; আর আমিও তার মধ্যে একজন বিশ্বস্ত, দায়িত্বশীল ও দ্বীনদার জীবনসঙ্গী খুঁজে পাই। আল্লাহ তাআলা আমাদের উভয়কে পরস্পরের জন্য কল্যাণের কারণ করুন এবং আমাদের ভবিষ্যৎ পরিবারকে ঈমান, তাকওয়া, ভালোবাসা, শান্তি ও বরকতে পরিপূর্ণ করুন। আমীন।
আপনার আহলিয়ার পর্দার ব্যবস্থা রাখতে পারবেন? হ্যা
আপনি বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে কোথায় থাকবেন? যৌথ ফ্যামিলিতে
অন্যান্য তথ্য
পেশা সম্পর্কিত তথ্য (Required) জি আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমানে আমি একজন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি ঢাকার আগারগাঁওয়ে আমার বড় ভাইয়ের ব্যবসায় ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমাদের ব্যবসা মূলত একটি পোশাক ও ব্র্যান্ডিং প্রতিষ্ঠান, যেখানে টেইলারিং ও গার্মেন্টস-সংক্রান্ত কার্যক্রমের পাশাপাশি অনলাইনে সুন্নাহসম্মত লাইফস্টাইলের জুব্বা ও পাঞ্জাবি নিয়ে কাজ করা হয়। আমাদের ব্র্যান্ডের নাম “Thobeian”।
‎
‎প্রতিষ্ঠানের আইটি ও অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রমের দায়িত্বও আমি দেখাশোনা করি। বিশেষ করে ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, অনলাইন ব্যবসা পরিচালনা এবং প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো তত্ত্বাবধান করি। পাশাপাশি ব্যক্তিগত আগ্রহ ও দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বাসায় নিয়মিত প্রোগ্রামিং ও সফটওয়্যার-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রযুক্তিগত কাজ করি। নতুন নতুন প্রোগ্রামিং কনসেপ্ট শেখা, নিজে থেকে প্র্যাকটিস করা এবং বিভিন্ন ওয়েব ও সফটওয়্যার প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করার মাধ্যমে প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও উন্নত করার চেষ্টা করি। ভবিষ্যতে এই দক্ষতাগুলোকে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তি ও ব্যবসার সমন্বয়ে আরও কার্যকর ও বৃহৎ পরিসরের কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে।
‎
‎আলহামদুলিল্লাহ, আমরা ব্যবসার ক্ষেত্রে হালাল উপার্জন ও শরিয়াহসম্মত লেনদেনের প্রতি গুরুত্ব দিই। ব্যবসায় ব্যবহৃত ও বিক্রিত পণ্য এবং যাবতীয় লেনদেন হালাল ও বৈধ উপায়ে পরিচালনা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। ভবিষ্যতেও সততা, আমানতদারিতা ও হালাল উপার্জনের নীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যবসাকে আরও সম্প্রসারিত করার ইচ্ছা রয়েছে।
‎
‎সামগ্রিকভাবে, পড়াশোনা, ব্যবসায়িক দায়িত্ব এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন—এই তিনটি ক্ষেত্রকে সমন্বয় করে নিজেকে একজন দক্ষ, দায়িত্বশীল, সৎ ও উপকারী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে হালাল ও কল্যাণকর কাজে ব্যবহার করে নিজের পরিবার, সমাজ এবং মানুষের জন্য উপকারী কিছু করার প্রত্যাশা রাখি।
বিশেষ কিছু যদি জানাতে চান জি আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের পরিবার একটি যৌথ পরিবার। বর্তমানে আমরা তিন ভাই, আমাদের তিন ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তান এবং আমাদের আব্বা-আম্মা—সবাই একসঙ্গে বসবাস করছি। পারস্পরিক ভালোবাসা, সম্মান, সহযোগিতা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে আমরা পারিবারিক জীবন পরিচালনা করার চেষ্টা করি।
‎
‎আমাদের ইচ্ছা হলো, আল্লাহ তাআলা যতদিন আমাদের জন্য কল্যাণকর রাখেন, ততদিন আমরা সবাই মিলেমিশে, পরস্পরের প্রতি সম্মান ও আন্তরিকতা বজায় রেখে একসঙ্গে থাকতে পারি, ইনশাআল্লাহ। বিশেষ করে আব্বা-আম্মার সান্নিধ্যে থেকে তাঁদের খেদমত করা এবং তাঁদেরকে নিয়ে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পারিবারিক পরিবেশ বজায় রাখা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
‎
‎একই সঙ্গে আমরা মনে করি, যৌথ পরিবারে সুন্দরভাবে বসবাসের জন্য পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া, সহনশীলতা এবং প্রত্যেকের ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য ও মতামতের প্রতি সম্মান থাকা জরুরি। তাই ভবিষ্যতে যিনি আমাদের পরিবারের একজন নতুন সদস্য হিসেবে যুক্ত হবেন, তাঁর প্রতিও আন্তরিকতা, সম্মান ও সহযোগিতার মানসিকতা বজায় রাখার চেষ্টা থাকবে।
‎
‎আমার প্রত্যাশা, পরিবারের সবাই পরস্পরের প্রতি দায়িত্বশীল থাকবে এবং ভালোবাসা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে একটি সুন্দর পারিবারিক পরিবেশ বজায় রাখবে। ইনশাআল্লাহ, আমিও আমার জীবনসঙ্গীর অনুভূতি, প্রয়োজন ও স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব দিয়ে পরিবারের সঙ্গে সুন্দরভাবে সমন্বয় করে চলার চেষ্টা করব।
‎
‎আল্লাহ তাআলা আমাদের তিন ভাই, আমাদের স্ত্রী ও সন্তান এবং আব্বা-আম্মাসহ পুরো পরিবারকে ভালোবাসা, ঐক্য, শান্তি ও বরকতের সঙ্গে একত্রে রাখুন এবং আমাদের সবাইকে পরস্পরের হক যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
যেমন জীবনসঙ্গী আশা করেন
বয়স (Required) ১৮-২০
গাত্রবর্ণ ফর্সা, উজ্জল ফর্সা, শারীরিক গঠনের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক, সুগঠিত ও পরিমিত গড়ন পছন্দনীয়—অতিরিক্ত স্থূলতা বা অতিরিক্ত ক্ষীণতা নয়; বরং স্বাস্থ্যসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ গড়ন প্রত্যাশিত।
নূন্যতম উচ্চতা ৫'৩"-৫'৫"
নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে হাফেজা হওয়া অথবা দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করাকে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি দ্বীনদারিতা, উত্তম আখলাক, সুন্দর মানসিকতা এবং কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনার আন্তরিকতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দ্বীনি শিক্ষার প্রতি গভীর আগ্রহ, আমলের প্রতি যত্নশীলতা এবং ইসলামী মূল্যবোধকে জীবনে ধারণ করার মানসিকতা বিশেষভাবে পছন্দনীয়।
বৈবাহিক অবস্থা অবিবাহিত
জীবনসঙ্গীর পর্দা সম্পর্কে যেমনটা চান- (Required) জি, জীবনসঙ্গীর পর্দা সম্পর্কে প্রত্যাশা আমি চাই, আমার জীবনসঙ্গী কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ শরয়ি পর্দা মেনে চলবেন। গায়রে মাহরাম পুরুষদের সামনে সম্পূর্ণ শরীর পরিপূর্ণভাবে আবৃত রাখা, নিকাবের মাধ্যমে মুখমণ্ডল আবৃত রাখা এবং হাত ও পা মোজা/আবরণ দ্বারা ঢেকে রাখা—এগুলোকে আমি পর্দার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। পোশাক অবশ্যই ঢিলেঢালা, অস্বচ্ছ ও শরীরের আকৃতি প্রকাশমুক্ত হওয়া প্রত্যাশিত। আমার কাছে পর্দা শুধু পোশাকের বিষয় নয়; বরং পোশাক, নিকাব, শালীনতা, লজ্জাশীলতা, দৃষ্টি, কথাবার্তা এবং গায়রে মাহরামের সঙ্গে ইসলামী সীমারেখা বজায় রাখার একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। তাই আমি এমন একজন জীবনসঙ্গী প্রত্যাশা করি, যিনি আন্তরিকভাবে পূর্ণ পর্দা পালনে আগ্রহী এবং বিবাহের পরও তা দৃঢ়ভাবে বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবেন, ইনশাআল্লাহ। সারকথা: গায়রে মাহরামের সামনে পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ শরয়ি পর্দা—নিকাবসহ সম্পূর্ণ আবৃত থাকা—আমার জীবনসঙ্গীর ক্ষেত্রে আমার সুস্পষ্ট প্রত্যাশা।
পেশা (Required) জি, মাদরাসার পড়াশোনা সম্পন্ন করে বর্তমানে বাসায় থেকে পড়াশোনা ও দ্বীনি জ্ঞানচর্চা অব্যাহত রেখেছেন। পাশাপাশি গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় কাজকর্ম শেখা ও পারিবারিক দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতিতে মনোযোগী।
অর্থনৈতিক অবস্থা জি, মধ্যবিত্ত ও সম্মানিত পারিবারিক পরিবেশ। আলহামদুলিল্লাহ, পরিবারটি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ও স্থিতিশীল এবং পরিমিত ও সাদাসিধে জীবনযাপনে অভ্যস্ত।
পারিবারিক অবস্থা (Required) জি, পাত্রীর পারিবারিক অবস্থা পাত্রীর পরিবারের ক্ষেত্রে দ্বীনদারিতা, সচ্চরিত্র, পারিবারিক মূল্যবোধ, শালীনতা ও উত্তম পরিবেশকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরিবারটি যেন ইসলামী আদর্শ ও নৈতিক মূল্যবোধকে সম্মান করে এবং পারিবারিক জীবনে পারস্পরিক সম্মান, সৌহার্দ্য ও দায়িত্ববোধ বজায় রাখে—এমন পরিবার প্রত্যাশিত। পরিবারের আর্থিক অবস্থা, সামাজিক মর্যাদা বা বাহ্যিক আড়ম্বরকে বিবাহের মূল বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখা হয় না। বরং পরিবারের সদস্যদের চরিত্র, আচার-আচরণ, দ্বীনের প্রতি আন্তরিকতা, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সন্তানদের নৈতিক ও ইসলামী পরিবেশে গড়ে তোলার মানসিকতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষভাবে এমন একটি পরিবার প্রত্যাশা করি, যেখানে বিবাহকে কোনো আর্থিক লেনদেন বা সামাজিক প্রদর্শনের বিষয় হিসেবে দেখা হয় না এবং যৌতুক, অযৌক্তিক দাবি কিংবা অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার পরিবর্তে সরলতা, সম্মান ও ইসলামী আদর্শকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। সর্বোপরি, এমন একটি পরিবার প্রত্যাশিত যেখানে পাত্রীর পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও পারস্পরিক সম্মান, সৌহার্দ্য ও সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
জীবনসঙ্গীর যে বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী আশা করেন জি, জীবনসঙ্গী হিসেবে সর্বাগ্রে একজন দ্বীনদার, তাকওয়াশীল, পর্দাশীল, উত্তম আখলাকসম্পন্ন ও আল্লাহভীরু নারী প্রত্যাশা করি। যিনি কুরআন ও সুন্নাহকে জীবনের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেন এবং ফরজ ইবাদত, বিশেষত সালাতের প্রতি যত্নশীল। দ্বীনের ব্যাপারে আন্তরিকতা, হালাল-হারামের বিষয়ে সচেতনতা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতাকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

প্রত্যাশিত গুণাবলির মধ্যে রয়েছে—

• দ্বীনদারিতা ও তাকওয়া: আল্লাহকে ভয় ও ভালোবাসার সঙ্গে কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার আন্তরিক চেষ্টা থাকা।
“নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে সে-ই অধিক সম্মানিত, যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়াশীল।”
— সূরা আল-হুজুরাত, ৪৯:১৩

• সালাত ও ইবাদতের প্রতি যত্নশীলতা: পাঁচ ওয়াক্ত সালাতসহ ফরজ ইবাদত পালনে যত্নবান এবং দ্বীনি আমল বৃদ্ধির প্রতি আগ্রহী হওয়া।
“নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের উপর নির্ধারিত সময়ে ফরজ করা হয়েছে।”
—সূরা আন-নিসা, ৪:১০৩

• উত্তম আখলাক ও সুন্দর চরিত্র: নম্রতা, ভদ্রতা, ধৈর্য, ক্ষমাশীলতা, সত্যবাদিতা ও সুন্দর ব্যবহারের অধিকারী হওয়া।
“তোমাদের মধ্যে আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় এবং কিয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে তারা, যারা তোমাদের মধ্যে চরিত্রে সর্বোত্তম।”
— জামে‘ আত-তিরমিযী, ২০১৮

• পর্দাশীলতা ও লজ্জাশীলতা: শালীন পোশাক, মাহরাম-নন-মাহরামের সীমারেখা সম্পর্কে সচেতনতা এবং ইসলামী শালীনতা বজায় রাখার আন্তরিকতা থাকা।
“আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে...”
— সূরা আন-নূর, ২৪:৩১

• স্বামীর সঙ্গে উত্তম আচরণ ও পারিবারিক দায়িত্ববোধ: দাম্পত্য জীবনকে আমানত হিসেবে গ্রহণ করা, পারস্পরিক সম্মান, ভালোবাসা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সংসার পরিচালনায় আগ্রহী হওয়া।
“তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে-ই, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম।”
— জামে‘ আত-তিরমিযী, ৩৮৯৫

• ধৈর্য ও সংযম: পারিবারিক জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ধৈর্যশীল, বিচক্ষণ ও সংযমী হওয়া; মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে উত্তম পন্থায় সমাধানের মানসিকতা থাকা।

• সততা ও আমানতদারি: কথা, আচরণ ও দায়িত্ব পালনে সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত হওয়া।
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন আমানতসমূহ তাদের হকদারদের কাছে পৌঁছে দিতে...”
— সূরা আন-নিসা, ৪:৫৮

• দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ: কুরআন, হাদিস ও প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল শেখার আগ্রহ থাকা এবং নিজের আমল ও চরিত্রকে ক্রমাগত সুন্দর করার চেষ্টা করা।

• সাদাসিধে ও পরিমিত জীবনযাপন: অহংকার, অপচয় ও অতিরিক্ত দুনিয়ামুখিতার পরিবর্তে পরিমিত, মার্জিত ও ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন জীবনযাপনে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা।

•পরিবারের প্রতি সম্মান: স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও উভয় পরিবারের সদস্যদের প্রতি সম্মান, সৌজন্য ও উত্তম আচরণ বজায় রাখার মানসিকতা থাকা।

• সন্তানদের দ্বীনি পরিবেশে গড়ে তোলার মানসিকতা: ভবিষ্যৎ সন্তানদের ঈমান, আখলাক, আদব ও ইসলামী শিক্ষায় গড়ে তোলার ব্যাপারে আন্তরিক হওয়া।

সর্বোপরি, বাহ্যিক সৌন্দর্য, পার্থিব যোগ্যতা বা সামাজিক অবস্থানের চেয়ে দ্বীনদারিতা, তাকওয়া, উত্তম আখলাক, লজ্জাশীলতা, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার আন্তরিকতাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“একজন নারীকে চারটি কারণে বিবাহ করা হয়—তার সম্পদ, বংশমর্যাদা, সৌন্দর্য ও দ্বীনদারিতার কারণে। তুমি দ্বীনদার নারীকে অগ্রাধিকার দাও...”
— সহিহ আল-বুখারি, ৫০৯০; সহিহ মুসলিম, ১৪৬৬

অতএব, আমার প্রত্যাশা এমন একজন জীবনসঙ্গী, যিনি দ্বীনের পথে আমার সহযাত্রী, দুনিয়াবি জীবনে বিশ্বস্ত সঙ্গী এবং আখিরাতের কল্যাণে একে অপরকে সহযোগিতা করার মানসিকতাসম্পন্ন হবেন। আল্লাহ আমাদের উভয়ের জন্য এমন জীবনসঙ্গী নির্ধারণ করুন, যিনি পরস্পরের জন্য প্রশান্তি, ভালোবাসা, রহমত ও দ্বীনের পথে সহযোগিতার মাধ্যম হবেন। আমিন।

⚠️ বিশেষ দ্রষ্টব্য

বিবাহের ক্ষেত্রে দ্বীনদারিতা, পর্দাশীলতা, লজ্জাশীলতা, উত্তম আখলাক এবং সংযত জীবনযাপনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই অনুগ্রহ করে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করে যোগাযোগ করবেন—

🔹 যাঁরা পূর্বে কোনো প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন, বর্তমানে কোনো প্রেমের/অবৈধ সম্পর্কে রয়েছেন অথবা এ ধরনের সম্পর্কের প্রতি অভ্যস্ত, তাঁরা অনুগ্রহ করে যোগাযোগ করবেন না।

🔹 যাঁরা নন-মাহরাম ছেলেদের সঙ্গে ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব, নিয়মিত যোগাযোগ বা অবাধ মেলামেশায় অভ্যস্ত, অথবা যাঁদের কোনো ছেলে বন্ধু রয়েছে/ছিল, তাঁরা অনুগ্রহ করে যোগাযোগ করবেন না।

🔹 যাঁরা Facebook, Instagram, X (Twitter), TikTok ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সক্রিয় বা আসক্ত এবং নিয়মিত ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও বা অনলাইনভিত্তিক সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন, তাঁরা অনুগ্রহ করে যোগাযোগ করবেন না।

🔹 যাঁরা স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন বিনোদনে অতিরিক্ত আসক্ত এবং এসব ব্যবহারে সংযম বজায় রাখতে পারেন না, তাঁদের ক্ষেত্রেও এই প্রস্তাবটি প্রযোজ্য নয়।

🔹 যাঁদের নিয়মিত নাটক, সিনেমা, ওয়েব সিরিজ কিংবা বিভিন্ন অনলাইন বিনোদনমূলক কনটেন্ট দেখার অভ্যাস রয়েছে, বিশেষত যেসব কনটেন্ট শালীনতা ও ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়—তাঁদের প্রতি বিনীত অনুরোধ, অনুগ্রহ করে যোগাযোগ না করার জন্য।

🔹 সর্বোপরি, উপরোক্ত বিষয়গুলোকে কোনো ব্যক্তির প্রতি অসম্মান বা নেতিবাচক মূল্যায়ন হিসেবে নয়; বরং বিবাহের ক্ষেত্রে পারস্পরিক মূল্যবোধ ও জীবনধারার সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার একটি প্রত্যাশা হিসেবে বিবেচনা করার অনুরোধ রইল। যাঁদের জীবনধারা ও মূল্যবোধের সঙ্গে এগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তাঁরা অনুগ্রহপূর্বক যোগাযোগ থেকে বিরত থাকবেন।

জাযাকাল্লাহু খাইরান।
জীবনসংঙ্গীর জেলা যেমনটা চাচ্ছেন? (Required) নেত্রকোণা জেলা, ময়মনসিংহ সদর ও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন—উল্লিখিত স্থানসমূহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে পাত্রীর দ্বীনদারিতা, পর্দাশীলতা, উত্তম আখলাক, দ্বীনি শিক্ষাগত যোগ্যতা—বিশেষত হাফেজা অথবা দাওরায়ে হাদিস পাস—এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনায় বাংলাদেশের যেকোনো জেলা ও স্থান থেকেও প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
আপনি কি নওমুসলিমা বোনকে বিবাহ করতে আগ্রহী? না, আগ্রহী নই
কর্তৃপক্ষের জিজ্ঞাসা
বায়োডাটা জমা দিচ্ছেন তা অভিভাবক জানেন? হ্যা
আল্লাহ'র শপথ করে সাক্ষ্য দিন, যে তথ্যগুলো দিচ্ছেন সব সত্য? হ্যা
কোনো মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকলে তার দুনিয়াবী ও আখিরাতের দায়ভার ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ নিবে না। আপনি কি রাজি? হ্যা
যোগাযোগ

Unlock this biodata contact information with 1 gem.

Login to unlock contact

সর্বমোট ভিউ: 109 ভিউস